আজ ১১ মে। গত দুই-তিন দিন যাবৎ সুজান ক্যাথেরিন নামে এক ফেসবুক আইডির সাথে চ্যাট হচ্ছে আমার। কোনো লাইভ কল হয় নি, কেবল চ্যাট। সে দাবী করেছে, সে নাকি একজন মার্কিন নাগরিক; সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর মধ্যে রয়েছে, নার্স হিসেবে। তার টাইটেল আবার ‘সার্জেন্ট’ এবং মাসে ২২০০০ ডলার বেতন পায়। সে আমাকে কন্ট্যাক্ট করেছে, কারণ সে বাহিনী ত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে যেতে চায়, এসব যুদ্ধ-বিগ্রহ তার ভালো লাগে না।
সে কিছুদিন আগে এক যুদ্ধস্পটে নাকি বেশ কিছু টাকার সন্ধান পেয়েছে। বাক্সভর্তি টাকা সে লুকিয়ে নিয়ে এসেছে, এ কাজে তার একজন সহযোগী ছিল। দুজনে মিলে টাকা গুণে ভাগ করে নিয়েছে। তার ভাগে পড়েছে সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার। এখন এই টাকাগুলো আমেরিকা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সে এটা বিদেশে পাচার করতে চায়, যে উদ্দেশ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। আমার সাথে তার কথোপকথনের স্ক্রিনশটগুলো নিচে দিয়ে দিলাম। পরবর্তীতে সে আমাকে কনভিন্স করলো এবং দাবী করলো, টাকাটা নাকি পাঠিয়েছে। যেখানে এ ধরনের একটি ইন্টারন্যাশনাল পার্সেল আসতে স্বাভাবিক সময়ে বেশ কয়েক দিন লাগে, সেখানে এই করোনা’র সময়ে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে নাকি পার্সেলটি চিটাগাং বিমানবন্দরে এসে পড়েছে।
এরপর কাহিনী হলো, পার্সেলটা পাঠাতে তার নাকি তিন হাজার ডলার খরচ হয়েছে এবং সেটা রিলিজ করার জন্য আমাকে এক হাজার ডলার বা পঁচাশি হাজার টাকা পাঠাতে বলেছে একটা মোবাইল নাম্বার থেকে। আমি টাকার অংক শুনে ঘাবড়ে গেলাম না; কারণ আমি জানতাম, এটা ফ্রড হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। আমি সিম্পলি বললাম, ‘ঠিক আছে, অ্যাকাউন্ট নাম্বার দেন। আমি টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি।’ তারা বোধ হয় এতটা প্রম্পট্ অ্যান্সার আশা করে নি। তাই সম্ভবতঃ কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েই বললো, ‘ঠিক আছে, আপনি টাকাটা জোগাড় করুন, তারপর অ্যাকাউন্ট নাম্বার পাঠাচ্ছি।’

আমি ভেবেছিলাম, মেয়েটার কাছে অস্বীকার করবো যে, ‘আমি টাকাটা পাই নি’। কিন্তু এটা জানাতেই সে নাকি ঐ কুরিয়ার সার্ভিসের লোকদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, আমার সাথে অলরেডি যোগাযোগ করা হয়েছে। এখন সে আমাকে ঐ টাকা পে করতে চাপ দিচ্ছে এবং ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছে। ঘটনা যাই হোক, আমি কাউকে কোনো টাকাপয়সা দিচ্ছি না; কারণ ফেসবুকে এ ধরনের চিটিং বাজি প্রায়ই চলে। এরকম এক্সপেরিয়েন্স আমার আগেও আছে। এর আগে ১২ সালের দিকে রাশিয়া থেকে অ্যালা ক্রশকা নামে একটা মেয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল এবং শেষমেশ কেবল দুইশত ডলার বা ১৫০০০ টাকার জন্য বায়না ধরেছিল।
এই টাকাটা পাঠালেই নাকি সে বাংলাদেশে ঘুরতে আসতে পারবে – অামার সাথে দেখা করার জন্য। পুরোটাই হাস্যকর। এছাড়া ১১ সালের শেষের দিকে সম্পূর্ণ দেশী (সুনামগঞ্জ, লন্ডনী কন্যা) পরিচয় দিয়ে আমার কাছ থেকে ২২০০০ টাকা খসিয়েছে এক পার্টি। সে কাহিনী না হয় আরেকদিন বলবো। যাই হোক, আজকে যে মোবাইল নাম্বার থেকে আমাকে কল করা হয়েছে, সেটা কেউ পেতে চাইলে কমেন্টে বা ইনবক্সে জানান।




































চ্যাটের বাকি স্ক্রিনশটগুলো আস্তে আস্তে দিব। শেষের আলাপগুলো নিম্নরূপঃ






