কেয়ামতের আগ পর্যন্ত বোধ হয় এই বিতর্ক চলতেই থাকবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক আসলে কে – মুজিব না জিয়া? একজন মুক্তচিন্তার ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে এক্ষেত্রে আমারও কিছু বলার থাকতে পারে। আমি আমার বিবেকের কথা বলে যাই, তারপর কে আমাকে মুজিবপন্থী আর কে জিয়াপন্থী বলবেন, সেটা আমার মাথাব্যথা নয়। কারণ চাইলেও দেশের সকল মানুষের চোখে আমি ভালো হতে পারবো না।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ -এ ৭ই মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে বলেছিলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকবা। আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তবুও তোমরা ঝাঁপায়া পড়বা। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ও প্রথম ঘোষক শেখ মুজিবুর রহমান। এখানে ব্যক্তিবিশেষ কারো রাজনৈতিক মতাদর্শে কিছু যায় আসে না। শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মেনে নিয়েছি, তার মানে এই নয় যে, আমি আওয়ামী লীগ করি। আমি আসলে কোনো লীগ বা দল করি না। আসলে বাংলাদেশের বর্তমান নেতা-নেত্রীদের মনমানসিকতা এতটাই নোংরা পর্যায়ের যে, তাদের কাউকে সমর্থন করার মতো রুচি আমার হয় না।
তবে ২৭ মার্চ তারিখে জিয়া চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে যে ঘোষণাটা দিয়েছিলেন, সেটাও প্রশংসার দাবী রাখে বটে। জিয়ার জায়গায় অন্য কেউ হলে এতটা স্বতস্ফূর্ত ও সাহসিকতার সাথে ঘোষণাটা দিতে পারতেন কিনা – এ সন্দেহ বেশিরভাগ দেশবাসীর ন্যায় আমারও আছে। ‘আমি মেজর জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’- এ কথা বলার সময় তিনি শেখ মুজিবের নাম না নিয়ে থাকলেও এটা বুঝতে কোনো সমস্যা হয় না যে, তিনি স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক নন; বরং তিনি শেখ মুজিবের হয়েই ঘোষণাটা দিয়েছিলেন। ঐ সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকলেও তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন সর্বাধিনায়ক।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অনেক কলুষিত হয়ে গেছে, তাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা একে অপরের ওপর কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছেন, এমনকি তারা এর মাঝে বঙ্গবন্ধু ও জিয়াকেও টেনে আনতে দ্বিধাবোধ করছেন না। তারেক জিয়া বৃটেনে অবস্থান করে বলতে চাইছেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তিনি তখন যাই করে থাকুন না কেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রের প্রাণভোমরা – এ কথা বুকে হাত দিয়ে অস্বীকার করার দুঃসাহস কারো হবে বলে মনে করি না।