সুবর্ণা মুস্তফা ১৯৫৯ সালে ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন, অর্থাৎ তাঁর বর্তমান বয়স ৫৮ বছর। তিনি বাংলাদেশে টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। ১৯৯০ সালে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’, ১৯৯১ সালের ধারাবাহিক নাটক ‘অয়োময়’ এবং ১৯৯৯ সালে প্রচারিত ‘আজ রবিবার’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে সুবর্ণা মুস্তফা খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
সুবর্ণার পিতৃভূমি বরিশালে, তাঁর পিতা গোলাম মুস্তফাও একজন অভিনেতা ছিলেন। তিনি মূলতঃ বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে ভিলেন হিসেবে বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। সুবর্ণার মা’র নাম হুসনে আরা মুস্তফা, তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও, রেডিও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ বেতারে প্রযোজক ছিলেন। সুবর্ণার একজন বোন রয়েছে, নাম ক্যামেলিয়া মোস্তফা। তিনি তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বেশিরভাগ সময় এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত তাঁর নানাবাড়িতে কাটিয়েছেন। তিনি ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী ছিলেন। সুবর্ণা ১৯৭৮ সাল হতে অভিনয় ও অন্যান্য শিল্পকলার সাথে জড়িত আছেন।
জহির রায়হানের উপন্যাসনির্ভর টেলিভিশন নাটক ‘বরফ গলা নদী’র মাধ্যমে অভিনয়ে হাতে খড়ি হয় সুবর্ণার। এটিএন বাংলায় ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে প্রচারিত ধারাবাহিক ‘ডলস হাউজ’-এ একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আল মনসুর পরিচালিত ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’-এর মাধ্যমে মঞ্চনাটকে অভিষেক হয় সুবর্ণার। ২০০৯ সালে এটিএন বাংলায় প্রচারিত একপর্বের নাটক ‘আকাশ কুসুম’-এর মাধ্যমে পরিচালনায় হাতে খড়ি হয় তাঁর। সুবর্ণা মুস্তফা ক্রিকেটের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনি ২০১৫ সাল হতে ‘রেডিও ভূমি’তে ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার বাছাইপর্বে বিচারক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
এবার সুবর্ণার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আরো কিছু বলা যাক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা হূমায়ুন ফরিদী। জানা যায়, সুবর্ণা ছিলেন ফরিদীর দ্বিতীয় স্ত্রী। ২০০৮ সালের ১৮ই মার্চ ফরিদীকে তালাক দেন তিনি, এরপর একই সালের জুলাই মাসে ‘ডলস হাউজ’ ধারাবাহিকের সহ-পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে বিবাহ করেন। সুবর্ণার এই দ্বিতীয় স্বামী বয়সে তাঁর হাঁটুর সমান, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বয়সের বেজায় ফারাক। তা সত্ত্বেও তাঁরা এখন পর্যন্ত সুখী দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। তবে সুবর্ণার আজ পর্যন্ত কোনো সন্তান হয় নি।