সিএনজি চুরি করে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট-বাড়ি ও বহুতল বিল্ডিংয়ের মালিক বনে গেছেন এক লোক। তার অধীনে কাজ করে আরও ১০০ চোর। যাদের কাজই হলো রাতে সিএনজি চুরি করা। আর ভাগের টাকাটা ‘ওস্তাদের’ কাছে পৌছে দেয়া। ডিএমপি জানায়, রাজধানীর প্রত্যেকটি থানায় তার নামে মামলা রয়েছে। তবে পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।
রাজধানীর সিএনজি চালকদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক এই লোকের নাম কানা শহীদ। মাত্র দশ বছর আগেও পেশায় তিনি ছিলেন একজন সিএনজি ড্রাইভার। কোনো এক দুর্ঘটনায় এক চোখ হারালে তার নাম হয়ে যায় কানা শহীদ।
চোখ হারানোর পর সিএনজি চালানো বন্ধ হয়ে যায় শহীদের। আর তাই একা একাই সিএনজি চুরির কাজে নামেন তিনি। বর্তমানে একাধিক চোরচক্র তার অধীনে কাজ করে। আর মাথায় বসে সব চুরির কলকাঠি নাড়েন এই কানা শহীদ নামের গডফাদার।
সিএনজি চুরি নির্বিঘ্ন করতে পুরো রাজধানীকে দশটি অংশে ভাগ করেছেন কানা শহীদ। প্রতিটি অংশে তার বিশ্বস্ত শিষ্য চুরির বিষয়টি দেখভাল করে। চুরি করা সিএনজি ফিরিয়ে দিতে মালিকের কাছ থেকে যে টাকা নেয়া হয় তার বড় একটি অংশ পৌছে যায় কানা শহীদের পকেটে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, এই সিএনজি চুরি করেই শহীদের প্রতিমাসে আয় ৩০ লাখ টাকারও বেশি। রাজধানীতে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবনের মালিক সে। রাজধানীর প্রত্যেক সিএনজি চোরের কাছে ‘গুরু’ নামে পরিচিত এই কানা শহীদ প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরেই টাকা বিলিয়ে চলেন।
কখনো গ্রেপ্তার হলে তাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য আগে থেকেই আইনজীবী আর দালাল ঠিক করা থাকে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও ঠিকই বের হয়ে গেছে শহীদ। বের হয়ে আবারও পুরনো পেশায় ফিরে গেছে সে।
কীভাবে সিএনজিগুলো চুরি করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী এক চালক তার অভিজ্ঞতার কথা জানান, বিমানবন্দর থেকে এক সুবেশী লোককে সিএনজিতে ওঠান। মাঝপথে এসে ওই লোক চা খাওয়ার কথা বলে সিএনজি থেকে নামে। তারপর তাকেও চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। চা খেয়ে সিএনজিতে উঠে কিছুদূর যাওয়ার পর ঘুম ঘুম লাগায় তিনি গাড়ি থামান। এরপর তিনি নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করেন। সিএনজি ও মোবাইল ফোন দুটোই নিয়ে যায় চোর।
এরপর তিনি তার নাম্বারে ফোন দিলে একজন ফোন ধরে জানায় ৭০ হাজার টাকা না দিলে সিএনজি দেয়া হবে না। শেষে ৫০ হাজার টাকায় রফা করে তিনি তার সিএনজি ছাড়িয়ে আনেন। পুলিশের কাছে গেলে উল্টো ঝামেলা বাড়বে মনে করে আর যাননি তিনি।