কারিশমা ও কারিনা কাপুরের মা ববিতা নন, আমরা এখানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রবাদপ্রতীম নায়িকা ববিতার কথা বলছি। বিনোদনজগতে তাঁর নাম ববিতা হলেও তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদা আক্তার পপি। তাঁর জন্মতারিখ ৩০শে জুলাই। তাঁর জন্মসাল পুরোপুরি জানা না গেলেও বয়স মোটামুটি ৬৫ এর কাছাকাছি। তিনি যশোরের মেয়ে। জানা গেছে, বর্তমানে ববিতা তাঁর একমাত্র ছেলে অনিককে নিয়ে বনানীর বাড়িতে থাকেন। তাঁর স্বামীর নাম ইফতেখার। তিনি চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁদের ছেলের বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখনই ঐ ভদ্রলোক মারা যান। চিত্রনায়িকা সুচন্দা ববিতার আপন বড়বোন, প্রয়াত লেখক ও চিত্রনির্মাতা জহির রায়হান তাঁর দুলাভাই অর্থাৎ সুচন্দার স্বামী। চিত্রনায়িকা চম্পা ববিতার আপন ছোট বোন। চিত্রনায়ক রিয়াজ ববিতার আপন কাজিন এবং ওমর সানি দূরসম্পর্কের ভাইপো হন।
ববিতা একটি শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর তিনজন ভাই রয়েছে। তাঁর মা কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ববিতা নিজেও একজন ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের পরিক্রমায় হয়ে গেলেন চিত্রশিল্পী। ২০০৪ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে ববিতা জানিয়েছেন, আফজাল চৌধুরি নামে এক ব্যক্তি প্রথম তাঁর ‘পর্দা নাম’ হিসেবে ‘ববিতা’ নামটি প্রস্তাব করেন। ২০০৫ সালে ডেইলি স্টারের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ববিতা জানিয়েছেন, তাঁর দুলাভাই জহির রায়হান ‘সংসার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রথমে তাঁকে প্রস্তাব দেন। আবার, অন্য এক সূত্রে জানা যায়, এহতেশামের ‘পিচ ঢালা পথ’ ছবিতে অভিনয়ের পর তিনি ‘ববিতা’ নামটি ধারণ করেন।
অবশ্য জহির রায়হান সর্বপ্রথমে যে ছবির জন্য ববিতাকে প্রস্তাব দেন তার নাম হলো ‘জলতে সুরজ কা নিচে’। যদিও ছবিটি মুক্তি পায় নি, কিন্তু এটিই তাঁকে ঢাকাই চলচ্চিত্র শিল্পে জায়গা করে দেয়।
ববিতার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির নাম ‘শেষ পর্যন্ত’। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো সুখে থাকো, টাকা আনা পাই, স্বরলিপি, মানুষের মন, পিচ ঢালা পথ, নয়ন মনি, জন্ম থেকে জ্বলছি এবং আনারকলি। তাঁর অভিনয়শৈলি ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সত্যজিৎ তাঁর ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ববিতাকে নেন, ১৯৭৩ সালে। ছবিটির মূল কাহিনী ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে। ববিতা তাঁর ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি যৌথ প্রযোজনার ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ‘গেহরি চোট’ বা ‘দূর দেশ’ নামক চলচ্চিত্রটি। এটি কানাডা-বলিউড-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনা। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৩ সালে, এতে ববিতার বিপরীতে অভিনয় করেন নাদিম বেগ। এছাড়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘মিস লংকা’ও উল্লেখযোগ্য। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৮৫ সালে, এটি উর্দুতে ‘নাদানি’ নামে পরিচিত। ববিতা অভিনীত ‘অশনি সংকেত’ ছবিটি ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গোল্ডেন বিয়ার’ পুরষ্কার জিতে নেয়। উক্ত ছবিতে ববিতা কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন।