নায়লা নাঈম বরিশালের মেয়ে। তিনি স্বল্প পোশাক-আশাকে নিজেকে যতটা ইয়াং দেখাতে চান, ততটা কমবয়সী নন। কমপক্ষে ৩৬ বছর বয়ষ্ক তিনি, কারণ তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। নায়লার উচ্চতা ১.৬৫ মিটার, অর্থাৎ ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। পড়াশুনার দিক থেকে একজন ডেন্টিস্ট হলেও ঐ পেশায় খুব কমই সংশ্লিষ্ট তিনি। ডেন্টাল সার্ভিসের চেয়ে মডেলিং এবং অভিনয়েই বেশি আগ্রহ বাংলাদেশি এই সেক্স সেনসেশনের। তিনি যখন প্রথম নিজের বেশ কিছু অর্ধনগ্ন ছবি পাবলিশ করেন, তখন সবাই তাঁকে ‘বাংলাদেশের সানি লিওন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। নিজের সেই অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে নিজেকে একজন ডেন্টাল প্রফেশনাল হিসেবে উপস্থাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নায়লা নাঈম তখন। এগুলো নায়লার কোনো বদনাম নয়, এগুলো হলো ফ্যাক্ট বা সত্য ঘটনা।
অভিনয় ও মডেলিং ক্যারিয়ারে উত্থানের জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ফেসবুক ব্যবহার করেন। অবশ্য তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি নাকি কখনোই ফেসবুক ব্যবহারের কথা ভাবেন নি। সত্যি কথা হলো, ফ্যানদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তথা নিজের প্রতি মিডিয়ার ফোকাস ধরে রাখতে প্রায়শই তিনি সংক্ষিপ্ত ও যৌন উত্তেজক পোশাক পরে নিজের ছবি বা সেলফি তোলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড দেন।
যাক, এবার তাহলে নায়লার সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক তথ্য দেয়া যাক। তিনি বরিশালেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন, ঢাকা সিটি ডেন্টাল কলেজ নামক একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি বিডিএস (ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রী অর্জন করেন। মডেলিংএর পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে কাজ করেন। ‘রান আউট’ নামক একটি ছবিতে কাজ করার মধ্যদিয়ে তিনি তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের সূচনা করেন। নায়লা ২০১৩ সালে ‘ঘাট বাবু নিতাই চন্দ্র’ নামক একটি নাটকে অভিনয় করেন, যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘ঘাট বাবু’র উপর ভিত্তি করে রচিত। ‘মাস্তি আনলিমিটেড’ নামে আরেকটি টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতে একটি আইটেম গানেও কাজ করেন নায়লা। ‘মারুফ টাকা ধরে না’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি চুক্তিবদ্ধ আছেন, ছবিটি সামনে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ‘রাত্রির যাত্রী’ নামক অপর একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। নায়লার মিউজিক ভিডিওগুলো হলো ‘ভোট ফর ঠোট’ (প্রিতম আহমেদ-এর সাথে), ‘সিটি ওভার নাইট’, ‘বন্ধু তুমি জানো না কত ভালোবাসি তোমাকে’ (তাপসের সাথে), ‘জান ও বেবি’ (সালমান মুক্তাদির-এর সাথে)।
নায়লা নাঈমকে ‘ফুডপান্ডা’র ক্যাম্পেইন ইমেজ হওয়ার জন্য রিক্রুট করা হয়েছিল। এছাড়া ‘পান্ডা’ অ্যান্টিভাইরাসের মডেল তথা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। একদিন তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড দেন, সেখানে দেখা যায়, তাঁর কম্পিউটারটি ভাইরাস কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ায় সব ফাইল মুছে গেছে, তিনি জোরে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন এবং দর্শকদের কাছে একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাসের নাম জানতে চান সাজেশন হিসেবে। পরবর্তীতে আরেকটি ভিডিও আপলোড দেন, যেখানে তাঁকে হাসিমুখে দেখা যায়; তিনি বলতে থাকেন, অবশেষে একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন যার নাম হলো ‘পান্ডা’ এবং সবাইকে এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। আসলে পুরো ব্যাপারটিই তাঁর সাজানো নাটক, নিছক একটি বিজ্ঞাপন আর কি!
যাই হোক, তিনি ‘রান আউট’ ছবিতে একটি আইটেম গানে পারফর্ম করেন। গ্রামীণফোন কর্তৃক আয়োজিত ‘অনন্ত জলিল’ নামক একটি অনুষ্ঠানে তিনি পারফর্ম করেন। ২০১৫ সালে এলজি ইলেকট্রনিক্সের জন্য নায়লা একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন যেটির নাম ছিল ‘বাঘের বাচ্চা ডিজিটাল’, বিজ্ঞাপনটি পুরষ্কার অর্জন করে। পরবর্তীতে বিতর্কিত ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের সাথে আরেকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন, সেটি একটি নন-অ্যালকোহলিক মল্ট বেভারেজের জন্য। বিজ্ঞাপনটি অবশ্য পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। নায়লা সিএমভি কর্তৃক প্রযোজিত ও প্রকাশিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য লিস্ট’-এ অভিনয় করেন। ‘র্যাম্প মডেল’ হিসেবেও কিছুদিন কাজ করেছেন নায়লা নাঈম।
যেমনটি আগে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল, নায়লা নাঈম যথেষ্ট বিতর্কিত জীবনযাপন করেন। ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের এক সময়কার ড্রাইভারের ভাষ্যমতে, নায়লা সাব্বিরের বাড়িতে একটি রাত্রিও যাপন করেছেন। যেহেতু নায়লা এখন অবিবাহিতা (ডিভোর্সী), তাই যেকোনো পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়ানোর সুযোগ রয়েছে তাঁর। এ বিষয়টিকে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের উত্থানের জন্য ব্যবহার করেন কিনা, কিংবা এর মাধ্যমে তিনি কোনো আর্থিক সুযোগসুবিধা নেন কিনা, সেটাই তাঁর ফ্যানদের চিন্তা ও আগ্রহের বিষয়। নায়লার এক সময়কার স্বামী তৌসিফ হোসেইন তুষার প্রথমে গান-বাজনা করলেও বিবাহ-বিচ্ছেদের পর এক পর্যায়ে ইসলামী জ্ঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সিরিয়ায় ‘ইসলামিক স্টেট’-এ যোগদান করেন।
কয়েক বছর আগে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তুষারকে ভাষ্য প্রদান করতে দেখা গেছে, তিনি ঐ ভিডিও’র মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলিম যুবসমাজকে আইএস-এ যোগদানে আহ্বান জানান এবং তাঁর আইএস-এ যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করেন। নায়লা একদিকে ‘উগ্র আধুনিকতা’য় ঝুঁকে পড়ছেন এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী জড়িয়ে পড়েছেন জঙ্গিবাদে! এখানে ঐ বিখ্যাত গানের কথা মনে পড়ে, ‘আজ দু’জনার দুটি পথ ওগো দু’টি দিকে গেছে বেঁকে’।
এবার নায়লা নাঈম সম্পর্কে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া যাক। দেহষৌষ্ঠবের দিক থেকে তিনি খুবই সুন্দর, একজন আদর্শ ‘স্লিম নারী’ বলা যেতে পারে তাঁকে, বাংলাদেশীদের মধ্যে যা খুবই ‘রেয়ার’ বা দুর্লভ। উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি হলেও ওজন মাত্র ৫০ কেজি’র কাছাকাছি। ২০০৩ সাল হতে নায়লা তাঁর কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন, অর্থাৎ ২০০৩ সালের মধ্যে তিনি পড়াশুনা শেষ করে অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগ দেন। নায়লার গায়ের রং ফর্সা, তাঁর চুল ও চোখের রং কালো। এক সময় বিবাহিত জীবনযাপন করলেও তাঁর কোনো সন্তানাদি নেই। তিনি ‘বেস্ট স্টাইল আইকন ২০১৭’ পুরষ্কারটি অর্জন করেন।
https://www.youtube.com/watch?v=DAZ_VXtN7AM