জেনে নিন ফেরাউন কে ছিলেন

ফেরাউনকে ইসলামের সকল অনুসারী (এবং সম্ভবত ইহুদীরাও) খারাপ চোখে দেখে। মজার ব্যাপার হলো, ‘ফেরাউন’ শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়, বরং এটি একটি বংশের নাম। দীর্ঘ একটা সময় (প্রায় কয়েকশত বছর) ধরে মিশরের সম্রাটকে ‘ফেরাউন’ বা ‘ফারাও’ বলা হতো। বংশ পরম্পরায় ক্ষমতায় আসা এই সম্রাটেরা নিজেদেরকে ‘ঈশ্বর’ বলে দাবী করতেন, ফলে মিশরের তৎকালীন অধিবাসীরাও ফারাওকে ঈশ্বর বলে মেনে নিতে বাধ্য হতেন। তবে ফেরাউন নামে যে ব্যক্তিটিকে মুসলমানেরা জানে তাঁর প্রকৃত নাম হলো ‘রেমেসিস’। শত্রু হবার পূর্ব পর্যন্ত তিনি ছিলেন মুসা (আঃ)-এর পালক ভাই। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে, মুসা (আঃ) ছিলেন রেমেসিসের পালক ভাই, কারণ রেমেসিসের মা (সম্রাটের স্ত্রী) মুসা (আঃ)-কে নীল নদের কিনারে কুঁড়িয়ে পেয়ে তাঁকে লালনপালন করে বড় করেন।



তাঁরা দু’জন প্রায় সমবয়সী ছিলেন এবং একসাথেই বেড়ে উঠেন। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় যে, মুসা নবী ছোটকাল থেকেই প্রচণ্ড দুর্দান্ত ও দুষ্ট ছিলেন। তিনি প্রায়ই দুষ্টামি ও অঘটন ঘটিয়ে ভাই রেমেসিসের উপর এর দায়ভার চাপিয়ে দিতেন। এজন্য রেমেসিস ছোটকাল থেকেই ভিতরে ভিতরে মুসা নবীর প্রতি ক্ষেপে ছিলেন। তাঁরা দু’জন প্রায় সমবয়সী হলেও রেমেসিস মুসা নবীর চেয়ে বয়সে কিছুটা বড় ছিলেন, তাই রেমেসিসই ছিলেন সাম্রাজ্যের পরবর্তী দাবীদার। রেমেসিসের পিতা তথা তৎকালীন সম্রাট প্রায় সবসময়ই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী তাঁর বড় পুত্রের উপর ক্ষেপে থাকতেন, কারণ তাঁদের দু’ভাইয়ের দুষ্টুমির বেশিরভাগ অভিযোগই রেমেসিসের নামে আসতো। সম্রাটের আশংকা ছিল এই যে, রেমেসিসের কারণেই হয়তো শতশত বছর ধরে চলে আসা তাঁদের পারিবারিক সংস্কৃতি ও রাজত্ব হুমকির মুখে পড়বে। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইতেন, রেমেসিসের কারণেই ফেরাউন বা ফারাওদের রাজত্বের অবসান ঘটতে পারে। সম্রাট তাঁর নিজের পুত্রকে সর্বদাই আরো কঠোর ও সতর্ক হওয়ার জন্য বলতেন, কিন্তু তারপরও রেমেসিস প্রায়ই বিতর্কের মুখে পড়তেন।

https://www.youtube.com/watch?v=goTvBkZ6HTg

এ ব্যাপারগুলো নিয়ে তিনি সর্বদাই বিব্রত থাকতেন, একারণে তিনি তাঁর পালক ভাই মুসা (আঃ)-কে কখনোই ভালো চোখে দেখতেন না। পরবর্তীতে মুসা নবী যখন নবুওয়্যত প্রাপ্ত হলেন, তখন রেমেসিসই ছিলেন মিশরের সম্রাট, কারণ তাঁদের পিতা ইতিমধ্যেই বিগত হয়েছেন। এসময় মুসা নবী যখন রেমেসিসকে আল্লাহ’র (একমাত্র স্রষ্টা) দাওয়াত দিলেন এবং বনী ইসরাইল বংশের লোকদেরকে ছেড়ে দিতে বললেন, তখন রেমেসিস তা অস্বীকার করলেন। আল্লাহ’র অস্তিত্বকে অস্বীকার করলেও তিনি তাঁর পালক ভাই মুসা’র অনুরোধে ঐ লোকগুলোকে ছেড়ে দিতেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর বিগত পিতার কথাগুলো সবসময়ই তাঁর কানে বাজতো ‘তুমি হলে বংশের কুলাঙ্গার, তোমার কারণেই শতশত বছর ধরে চলে আসা আমাদের বংশীয় রাজত্ব ও ঐতিহ্যের পতন ঘটবে।’ এ কথাগুলো স্মরণ করেই রেমেসিস কঠোর অবস্থানে গেলেন এবং বনী ইসরাইল বংশের দাসদেরকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করলেন।

পরবর্তী ঘটনাসমূহ সবারই জানা। মিশরের উপর আল্লাহ’র গজব নেমে আসলো এবং ‘সোনা’র মিশর প্রায় শ্মশানভূমি হয়ে গেলো। রেমেসিস এরপরও চুপচাপ ছিলেন এবং এ ‘গজব’গুলো সহ্য করার চেষ্টা করলেন, অর্থাৎ মুসা নবীকে আটকের বা জানে মেরে ফেলার কোনো পদক্ষেপ তিনি নেন নি। কিন্তু আল্লাহ’র গজবের দরুণ যখন তাঁর স্বীয় নাবালক পুত্র মারা গেল, তখন তাঁর মাথা আউলা হয়ে গেল। তখন তিনি প্রথমতঃ বনী ইসরাইল বংশের লোকদেরকে ছেড়ে দিলেও পরবর্তীতে সৈন্যবাহিনী সাথে নিয়ে মুসা নবীসহ তাদের সবাইকে নীল নদের মধ্যে মেরে ফেলার চেষ্টা করলেন। এতে হলো কী, মুসা নবীসহ বনী ইসরাইলের লোকজন নদী পার হতে পারলেও ফেরাউন রেমেসিস তাঁর সৈন্যদলসহ সেখানে ডুবে মরলেন।



Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.