আলিয়া ভাট ১৯৯৩ সালে ১৫ই মার্চ মুম্বাই নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন অর্থাৎ বর্তমানে তাঁর বয়স ২৫ বছর। জন্মসূত্রে তিনি ভারতের নাগরিক হলেও বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ সিটিজেন। তিনি অভিনয় এবং গান দুটোই করেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর জন্য তিনি দুটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কার ঝুলিতে ভরেছেন। বলিউডে বর্তমানে যে সকল অভিনেত্রী সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পান, আলিয়া তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা মহেশ ভাট এবং প্রাক্তন অভিনেত্রী সোনি রাজদানের কন্যা। অনেকের ধারণা হবে, তিনি বোধ হয় ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। কিন্তু এটি ভুল ধারণা, তাঁর অভিষেক ঘটে অনেক আগেই, ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সংঘর্ষ’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটিতে তিনি প্রীতি জিন্টার শিশুকালের চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে প্রাপ্তবয়ষ্ক চরিত্রে আলিয়ার প্রথম অভিনয় ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ ছবিটিতেই।
এই ছবিটির নির্মাতা করণ জোহার। আলিয়া পরবর্তীতে জোহারের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে একের পর এক অভিনয় করতে থাকেন। ছবিগুলো হলো ‘টু স্টেট্স্’ (২০১৪), ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’ (২০১৪), ‘বদরি কি দুলহানিয়া’ (২০১৭), ‘কাপুর এন্ড সন্স’ (২০১৬) এবং ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ (২০১৬)। শেষোক্ত ছবিটিতে আলিয়া শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত প্রায় প্রতিটি ছবিই তুমুল ব্যবসা করে।
২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাইওয়ে’ ছবিতে ভাটের অভিনয় বেশ প্রশংসা কুঁড়ায় এবং এর জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরষ্কারও লাভ করেন। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার এনে দেয়।
আলিয়ার পরিবার-স্বজন
আলিয়া ভাটের পিতা মহেশ ভাট গুজরাট থেকে এসেছেন এবং তাঁর মা সোনি রাজদানির রক্তে জার্মান ও কাশ্মিরি মিশ্রণ রয়েছে। এর মানে হলো, আলিয়ার নানার বাড়ি পাঞ্জাবে এবং নানীর বাড়ি জার্মানীতে। চলচ্চিত্র পরিচালক নানাভাই ভাট আলিয়ার দাদা হন। আলিয়ার আপন বড় বোনের নাম শাহিন এবং তিনি আলিয়া থেকে ৫ বছরের বড়। তাঁর দুইজন সৎ ভাই-বোন রয়েছে, তাঁদের নাম হলো পূজা ভাট এবং রাহুল ভাট। বলিউডের রোমান্টিক অভিনেতা এমরান হাশমি এবং পরিচালক মোহাত সুরি মায়ের দিক থেকে আলিয়ার কাজিন হন।
আলিয়া ভাটের প্রেমজীবন এবং সহজ-সরল স্বীকারোক্তি
স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার ছবিতে আলিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং বরুণ ধাওয়ান। এ ছবির পর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সাথে এই দুই তরুণ অভিনেতার প্রেমের গুজব শোনা যায়। বিশেষ করে বরুণের সাথে আলিয়ার ঘনিষ্ঠতা এবং মাখামাখি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভাট কিছুদিন রণবীর কাপুরের সাথে প্রেম করেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি রণবীরকে তিনি বিয়ে করতে চান, এমন কথাও সরাসরি বলেছেন আলিয়া।
উক্ত ছবিতে আলিয়া যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তার সাথে ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাভি খুশি কাভি গম’ ছবিতে কারিনা কাপুরের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। শুধু পার্থক্য হলো এই যে, কারিনা তাঁর ছবিতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গির চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেটা আলিয়া তাঁর ছবিতে করেন নি; বরং তাঁর ছবিতে তাঁকে বেশ ‘আত্মবিশ্বাসী’ অভিনয় করতে দেখা গেছে।
আলিয়া অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর আইডল হলেন কারিনা। ভাট আরো বেশ কিছু স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, সেগুলোর কয়েকটি তাঁকে বিতর্কিত করেছে। যেমনঃ তিনি বলেছেন, ক্লাস সিক্স বা গ্রেড সিক্স-এ থাকতে তিনি প্রথম সেক্স করেছেন। এধরনের কথা বলার উদ্দেশ্য খুব সম্ভবতঃ সস্তা পাবলিসিটি এবং অ্যাটেনশন পাওয়া।